কলঙ্কিত পুলিশের বন্ধুত্বের নমুনা

| প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
কিছুদিন আগে আমি লালবাগ ধানাধীন সেকশন হতে গাবতলী যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠি। রাত তখন প্রায় সাড়ে নয় টা বাজে। সেকশন হতে এই রাস্তা টি বেড়িবাধ দিয়ে মোহাম্মদপুর পার হয়ে গাবতলীর দিকে গেছে। আমি বাসের সামনের সিটে ঠিক ড্রাইভারের পিছনে বসে ছিলাম। আমার ডানপাশে আরেক যাত্রী বসে ছিলেন। সামনের মহিলা সিটে একজন মহিলা তার কোলের দুধের শিশু নিয়ে তার স্বামীর সাথে বসে ছিল। এছাড়া গাড়িতে যাত্রী ভর্তি ছিল। আমাদের গাড়ি মোহাম্মদপুর বেড়িবাধ বাস স্ট্যান্ডে ট্রাফিক সিগন্যালে রাস্তার একটু ডান পাশ ঘেষে দাড়িয়েছিল। আমাদের বাসের সামনে আর কোন বাস ছিল না।
 
 হঠাৎ ড্রাইভারের ডান পাশের জানালা স্ব জোরে ভাঙ্গার শব্দ হলো। জানালার কাচ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে আমাদের গায়ে লাগে যদিও কেউ আহত হয়নি এবং সামনে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা দুধের শিশুটিরও কোন ক্ষতি হয়নি। ভাঙ্গা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাড়িয়ে আছেন হাতে হকিস্টিক জাতীয় লাঠি নিয়ে। ঐ লাঠি দিয়েই তিনি বাসের জানালার গ্লাস সন্ত্রাসী স্টাইলে ভেঙ্গেছেন। দুই তিন মিনিট পরে আবার ঐ পুলিশ কর্মকর্তা এসে ঠিক একই কায়দায় সন্ত্রাসী স্টাইলে বাসের সামনের মেইন গ্লাস ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন।

আমি সহ বাসের সকল যযাত্রী এর তিব্র প্রতিবাদ করায় পুলিশ কর্মকর্তাটি সরে পড়েন। আমরাও বাস থেকে নেমে একটু হইচই করে থেমে যাই। বেচারা বাস ড্রাইভার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কারণ গাড়ীর গ্লাসের দাম অনেক। গাড়ির মালিক তো কোন কথা বুঝতে চাইবেন না। দোষটা হয়ত গরীব ড্রাইভারকেই দিবেন। গরীব ড্রাইভারটাও পক্ষে এত টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা কত যে কষ্টের তা ঐ ড্রাইভারও বুঝবেন না কিংবা কলঙ্কিত ঐ পুলিশ ও বুঝবে না। 
এখন এখানে একটি বিষয় চলে আসে। আসলেই ঐ ড্রাইভারের কোন দোষ ছিল? পরে জানতে পারলাম ড্রাইভার নাকি ডানদিকে বেশি চাপিয়ে গাড়ি দাড় করিয়েছে যার কারণে তার এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন দাবি গাড়ির সকল যাত্রী এক বাক্যে নাকোচ করে দিয়েছেন। কারণ আসলেই ড্রাইভারের কোন দোষ আমরা পাইনি। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া যায় যে, ঐ ড্রাইভার আসলেই দোষ করেছিলো। কিন্তু যদি কোন ড্রাইভার রং সাইডে গাড়ি পার্ক করে, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকে, লাইসেন্স না থাকে তাহলে একটি ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব কি? তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা বা দায়িত্ব হলো জরিমানা করা। প্রয়োজনে গাড়ি আটক রাখা। কিন্তু গাড়ি ভাঙ্চুর করার অধিকার বা ক্ষমতা কি কোন পুলিশের আছে?

এটা একটি নমুনা মাত্র। সারাদেশে এমন হাজারো গরীব ড্রাইভার আছে যারা এসব কলঙ্কিত পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ট। শুধু ড্রাইভার রাই নয় বরং আমরা সাধারণ নাগরিকেরা প্রতিনিয়ত এসব কলঙ্কিত পুলিশের দ্বারা হয়রানীর শিকার হচ্ছি। তবে একথা সত্য যে, এসব কলঙ্কিত পুলিশের সংখ্যা নেহাতই কম। কিন্তু এসব পুলিশের জন্য পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আজ তার স্বকীয়তা হারিয়েছে। মানুষের আস্থা হারাচ্ছে। পুলিশ জনগনের বন্ধু। কিন্তু এভাবেই কলঙ্কিত পুলিশ প্রতিনিয়ত তাদের বন্ধত্বের নমুনা দেখিয়ে যাচ্ছে। কোন প্রতিবাদ নেই তাই এসব বন্ধ হওয়ারও কোন আশা নেই।


         আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন মন্তব্যের ঘরে
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »