পুরাতন মোটরবাইক ক্রয় বিক্রয়ে সাবধানতা- জেনে রাখুন কিছু বিষয়

| প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ০৯, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটা সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে মোটরবাইক আবিষ্কারের ফলে। মোটরবাইকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই মনের কোনে স্বপ্ন বুনে থাকেন একটি মোটরবাইক ক্রয়ের। টাকার অভাবে নতুন মোটরবাইক কিনতে না পারলেও অনেকে অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে পুরাতন বাইক কিনেই প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। নতুন মোটরবাইক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঝামেলা না হলেও পুরাতন মোটরবাইক ক্রয় করার পর অনেকে নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হন। তাই পুরাতন মোটর বাইক ক্রয় করার আগে কিছু বিষয় মনে রাখলে হয়রানী থেকে বাঁচা সম্ভব হবে।


আপনি যদি ক্রেতা হন

১। যিনি মোটরবাইক বিক্রয় করবেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র  এর মুল কপি নিয়ে আসতে বলবেন। কখনোই  ফটোকপি নিয়ে আসতে বলবেন না। মুল কপি থেকে ফটোকপি করে আপনার কাছে রেখে দিন।
২। বিক্রেতার যদি অন্য কোনও আইডি কার্ড থাকেযেমনঃ জব আইডি কার্ড, ভার্সিটি আইডি কার্ড তাহলে তার ফটোকপি নিয়ে নিন। 
৩। বিক্রেতার ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙ্গিন ছবি নিয়ে আসতে বলুন যার পিছনে বিক্রেতার সই আপনার সামনে নিয়ে নিবেন।
৪। যে দোকান থেকে মোটর সাইকেল বিক্রেতা ক্রয় করেছিলেন সেই রশিদ টি নিজ সংগ্রহে রাখুন।
৫। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এ (১৫০ টাকার স্ট্যাম্প করবেন না) নিচের লিঙ্ক থেকে চুক্তিনামা ডাউনলোড করে ৩ পাতাতে প্রিন্ট দিবেন।

চুক্তিনামা ডাউনলোড করুন এখান থেকে 

১। বিক্রেতার স্বাক্ষর নিবেন প্রতি পাতা তে দুই বার করে। একদম শেষ পাতা তে বিক্রেতার স্বাক্ষর এর সাথে বিক্রেতার বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলির ছাপ নিবেন।

বিক্রেতা যদি বলে এটা লাগবে না তারপর ও নিবেন। মনে রাখবেন স্বাক্ষর জাল হতে পারে কিন্তু আঙ্গুলের ছাপ নকল হতে পারে না। কিনার সময় মনে করে পকেটে করে আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার স্ট্যাম্প কালি প্যাড সাথে নিয়ে যাবেন।

স্বাক্ষর এর নিচে মোবাইল নং ও নিবেন। স্ট্যাম্প টির খালি ঘর গুলো বিশেষ করে বিক্রেতার বিস্তারিত বিক্রেতার নিজের হাতে পুরন করে নিন।

স্ট্যাম্প এ যথাযথ ভাবে সব লেখা আছে। তারপর ও এই লেখা গুলো বিশেষ ভাবে নজর রাখবেন-

“”প্রকাশ থাকে যে, উক্ত গাড়ী্টি আমার / আমাদের নামে থাকা কালে কোন মামলা মোকাদ্দামা কিংবা ব্যাংকে কোন মর্টগেজ ছিল না । আরো উল্লেখ থাকে যে, মালিকানা পরিবর্তনে কোন সমস্যা হইলে দ্বিতীয় পক্ষ টাকা দেয়া সাপেক্ষে তাহা আমি প্রথম পক্ষ নিজ দায়িত্বে করিয়া দিতে বাধ্য থাকিব কিন্তু ২য় পক্ষকে অবশ্যই আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নাম ট্রান্সফার করতে হবে, অন্যথায় আমি ১ম পক্ষ দায়ভার বহন করিবে না এবং অদ্য……………………………………ইং তারিখ হইতে আমি দ্বিতীয় পক্ষ উল্লেখিত গাড়ীটির সমস্ত দায়িত্বে দায়বহন করবো ।

যদি নাম ট্রান্সফারে কোন বিগ্ন ঘটে, তাহা হইলে ১ম পক্ষ উপস্তিত থেকে উহা করিয়া দিতে বাধ্য থাকিবে ।””

২। সব স্বাক্ষর করা শেষ হলে বিক্রেতার স্বাক্ষর জাতীয় পরিচয়পত্র, রেজিস্ট্রেশান পেপার, ফিটনেস পেপার সব জায়গার বিক্রেতার স্বাক্ষর এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। সব যদি মিল থাকে তাহলে তারপর এ লেনদেন করুন।

লেনদেন এ দুইজন থাকলে ভালো হয়। ধরুন আপনার এক বিশ্বস্ত বন্ধু বা ভাইকে টাকা দিয়ে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে রাখলেন। আপনি সব কাগজ ওকে করার পর তাকে ফোন দিয়ে আসতে বললেন…

চুক্তিনামা নিয়ে উকিল এর কাছে এফিডেভিট ( নোটারি) করিয়ে নিবেন অবশ্যই।

সব কাগজ এর ফটোকপি করে এক সেট আপনার বাসায় রেখে দিবেন

আপনি যদি বিক্রেতা হন

১। যিনি মোটরবাইক ক্রয় করবেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র  এর মুল কপি নিয়ে আসতে বলবেন। কখনোই  ফটোকপি নিয়ে আসতে বলবেন না। মুল কপি থেকে ফটোকপি করে আপনার কাছে রেখে দিন।
২। ক্রেতার ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙ্গিন ছবি নিয়ে আসতে বলুন যার পিছনে বিক্রেতার সই আপনার সামনে নিয়ে নিবেন।

মোটরযানের মালিকানা বদলী


আপনি যদি ক্রেতা হন
ক) নির্ধারিত ফরম ‘টিও’ তে ক্রেতার স্বাক্ষর এবং ‘টিটিও’ এর নির্ধারিত স্থানে ক্রেতার নমুনা স্বাক্ষর প্রদান;
খ) নির্ধারিত ফি জমা রশিদের বিআরটিএ’র মূলকপি দাখিল;
গ) ক্রেতার টিন (TIN) সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বর্তমান ঠিকানার স্বপক্ষে টেলিফোন বিল/বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি যে কোনটির সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল;
ঘ) মূল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু-বুক) এর উভয় কপি প্রদান/ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট এবং হালনাগাদ ট্যাক্স-টোকেন, ফিটনেস, রুট পারমিট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এর সত্যায়িত ফটোকপি প্রদান;
ঙ) ছবিসহ ক্রয় সংক্রান্ত ২০০/- টাকা অথবা সরকার নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল। ক্রেতা যদি কোনো প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে হলফনামার পরিবর্তে অফিসিয়াল প্যাডে চিঠি প্রদান;
চ) নির্ধারিত নমুনা স্বাক্ষর ফরমে ক্রেতার নমুনা স্বাক্ষর এবং তিনকপি স্ট্যাম্প সাইজের রঙ্গিন ছবিসহ ফরমের অন্যান্য সকল তথ্য ইংরেজি BLOCK LETTER এ পূরণ করে দাখিল;
ছ) মোটরযানটি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসে উপস্থিতিকরণ;
জ) বিক্রেতার স্বাক্ষর গরমিল হলে তাঁকে বিআরটিএ অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।

আপনি যদি বিক্রেতা হন
ক) ফরম ‘টিটিও’ এবং বিক্রয় রশিদে বিক্রেতার স্বাক্ষর প্রদান (স্বাক্ষীর স্বাক্ষর ও রাজস্ব স্ট্যাম্পসহ);
খ) ছবিসহ বিক্রয় সংক্রান্ত ২০০/- টাকা অথবা সরকার নির্ধারিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল;
গ) বিক্রেতা যদি কোম্পানী হয় কোম্পানীর লেটার হেড প্যাডে ইন্টিমেশন, বোর্ড রেজুলেশন ও অথরাইজেশনপত্র প্রদান;\
ঘ) মোটরযানটি ব্যাংক অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ থাকলে দায়বদ্ধকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত ছাড়পত্র, লোন এ্যাডজাষ্টমেন্ট স্টেটমেন্ড, ব্যাংক কর্তৃক সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিঃ) বিআরটিএ বরাবর অনুরোধ পত্র এবং ২০০/- টাকা অথবা সরকার নির্ধারিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা প্রদান;
ঙ) বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল;
চ) বিক্রেতার স্বাক্ষর গরমিল হলে সরেজমিনে অফিসে উপস্থিতি।

ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা বদলীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ‘টিও’ ও ‘টিটিও’ ফরম [এ দু’টি ফরমসহ অন্যান্য ফরম এ ওয়েবসাইটের DOWNLOAD FORMS থেকে পাওয়া যাবে];
২। কোর্ট/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ওয়ারিশ সংক্রান্ত সনদ;
৩। প্রয়োজনীয় ফি জমা দানের রশিদ;
৪। একাধিক ওয়ারিশ থাকলে প্রথম ওয়ারিশের TIN সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি (ভাড়ায় চালীত নহে এমন কার, জিপ, মাইক্রোবাস-এর ক্ষেত্রে)
৫। মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ (উভয় কপি)/ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
৬। ছবিসহ নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা প্রাপ্তি সংক্রান্ত ওয়ারিশগণের হলফনামা [একাধিক ওয়ারিশ থাকলে এবং একজনের নামে মালিকানা প্রদান করা হলে সেক্ষেত্রে অন্যান্য ওয়ারিশগণ কর্তৃক সকলের ছবিসহ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আর একটি হলফনামা];
৭। নমুনা স্বাক্ষর ফর্মে নমুনা স্বাক্ষর এবং ইংরেজীতে নাম, পিতার/স্বামীর নাম, পর্ণ ঠিকানা ও 3 কপি স্ট্যাম্প আকারের রঙ্গীন ফটোসহ ফরমের অন্যান্য তথ্য পূরণ;
       আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন মন্তব্যের ঘরে
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »

3 টি মন্তব্য

মন্তব্য করার জন্য এখানে ক্লিক করুন