হারানো মোবাইল উদ্ধারের উপায়

| প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
কিছুদিন আগেও মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিঠিকে ব্যবহার করা হত।এতে করে কারো সাথে যোগাযোগের দরকার হলে অনেকদিন অপেক্ষা করা লাগত। বর্তমানে মোবাইল প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটা সহজ হয়েছে ঠিক ততটাই আমরা অলসও হয়ে গেছি।

মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে আমরা এর প্রতি এত বেশি মাত্রাই আসক্ত হয়ে গেছি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা ডকুমেন্টস বা কোন গোপণীয় বিষয় মোবাইলে সেভ করে রাখি। তাছাড়া মোবাইলে আমাদের প্রয়োজনীয় কন্টাক্ট নম্বর থাকে। যার কারণে মোবাইল চুরি হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে আমাদেরকে অনেক হয়রাণীর শীকার হতে হয়। শুধু তাই নয়। অনেকেই আইনগত বিভিন্ন জটিলতায় পড়ে যান। মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে করণীয় কিছু নেই মনে করে বসে থেকে নিজের ক্ষতি করবেন না। বরং মোবাইলটি উদ্ধারের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিন। তাহলে আপনার হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফেরত পেতে পারেন। ফেরত না পেলেও আইনগত বিভিন্ন জটিলতার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

১। বর্তমানে আমরা বেশিরভাগ লোকই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি। আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটিতে মোবাইল ট্র্যাকিং  এপ্লিকেশন ডাউনলোড করে রাখুন। গুগল প্লে স্টোরে আপনি এ ধরণের অনেক এপ্লিকেশন পাবেন। ভালমানের একটি এপ্লিকেশন ডাউনলোড করে রাখুন। পরবর্তীতে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে ট্র্যাকিং করে উদ্ধার করতে পারবেন।

২। আপনার মোবাইলের আই ই এম আই নম্বরটি সযত্নে লিখে রাখুন। এই আই ই এম আই নম্বর টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছাড়া আপনি আপনার মোবাইল উদ্ধার করতে ব্যর্থ হতে পারেন। 

৩। আপনি যদি গুগল এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে গুগল ম্যাপ লোকেশনের মাধ্যমে মোবাইলটি উদ্ধার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলটি গুগল এ্যাকাউন্ট এর সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে এবং মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। এ ব্যাপারে গুগলে সার্চ দিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। 

গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি

মোবাইল হারিয়ে গেলে সবচেয়ে উদ্বেগের যে ব্যাপার তাহলো আপনার চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি কোন খারাপ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। আপনার মোবাইলটি বেআইনী কাজে ব্যবহৃত হলে আপনি আইনগত ঝামেলাই ফেসে যেতে পারেন। কাজেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি উদ্ধারের জন্য আপনাকে এবার আইনগত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
(ক) জিডি করুন
আপনার মোবাইলটি যদি হারিয়ে যায় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে জিডি করুন। এক্ষেত্রে যে এলাকায় আপনার মোবাইলটি হারিয়েছে সেই এলাকার থানায় গিয়ে মোবাইলের কালার, মোডেল, ব্র্র্যান্ড, ব্যবহৃত সিম নম্বর, আই, ই এম আই নম্বর ইত্যাদি জানিয়ে একটি জিডি করুন। জিডির একটি কপি আপনার কাছে রাখুন। মনে রাখবেন প্রতিটি জিডিরই তদন্ত হয়। তাই তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তার একটি কপি আপনার সংগ্রহে রাখুন। জিডির নমুনা পেতে নিচের পোস্টটি দেখতে পারেন-
সাধারণ ডায়েরী কি ও কেন করা হয়

(খ) এজাহার দায়ের করুন
আপনার মোবাইলটি যদি চুরি বা ছিনতাই হয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় একটি এজাহার দায়ের করুন।এক্ষেত্রে যে এলাকায় আপনার মোবাইলটি চুরি বা ছিনতাই হয়েছে সেই এলাকার থানায় গিয়ে মোবাইলের কালার, মোডেল, ব্র্র্যান্ড, ব্যবহৃত সিম নম্বর, আই, ই এম আই নম্বর ইত্যাদি জানিয়ে একটি এজাহার দায়ের করুন। এজাহারের একটি কপি আপনার কাছে রাখুন। এজাহার দায়ের এর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তার একটি কপি আপনার সংগ্রহে রাখুন।

নিচে এজাহারের একটি নমুনা কপি দেওয়া হলো

তারিখঃ ………………

বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
………………..থানা, ঢাকা।

বিষয় : এজাহার প্রসঙ্গে।

জনাব,

আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী নাম: …………………………………
বয়স : ………………………………………………………
পিতা/স্বামী : ………………………………………………..
ঠিকানা : …………………………………………………….

আপনার থানায় হাজির হয়ে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি-  ( কত তারিখে কয়টার সময় এবং কোথায় ঘটনা ঘটেছিল তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। সংক্ষেপে ঘটনার বর্ণনা দিন)। -----------------------------------। আত্নীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের সাথে আলাপ আলোচনা শেষে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হলো।

অতএব মহোদয় সমিপে বিনীত নিবেদন এই যে, আমার লিখিত দরখাস্ত এজাহার হিসেবে গণ্য করিয়া জড়িত আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মহোদয়ের সদয় মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক

নাম:

মোবাইল নম্বর:


উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশ আপনার মোবাইলটি উদ্ধারের চেষ্টা করবে। জিডির ক্ষেত্রে যদি উদ্ধার সম্ভব হয় তাহলে পুলিশ আপনাকে ফোন করে আপনার মোবাইলটি আপনার দখলে দিয়ে দিবে। এবং এজাহারের ক্ষেত্রে মোবাইল উদ্ধার হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে মোবাইলটি জব্দ তালিকা সহ দাখিল করবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে আবেদন করে আপনাকে মোবাইলটি সংগ্রহ করতে হবে। আপনি যদি উপরোক্ত প্রক্রিয়া গুলি ঝামেলার মনে করেন এবং জিডি বা এজাহার না করেন তাহলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। কাজেই অবহেলা বা ঝামেলা মনে করে অলস হয়ে বসে থাকবেন না।

আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »