কোন স্ত্রী একাধিক স্বামী রাখলে তার পরিনাম

| প্রকাশিত হয়েছেঃ রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
আমাদের সমাজে দেখা যায় বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় একজন স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা কাজীর নিকট বা আইনজীবীর নিকট পূর্বের বিয়ের বিষয়টি চেপে যান অথবা তালাক দেওয়ার দুই একদিনের মধ্যেই পূনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান। বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী কোন স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিলে ঐ তালাকের ঘোষণার পর হইতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না অর্থ্যাৎ বিবাহ বলবৎ থাকে। আর বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন সময়ে কোন স্ত্রী পূণরায় অন্যজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তিনি একাধিক স্বামী গ্রহণ করার দোষে দোষী সাব্যস্ত হবেন। কারণ একই সময়ে একাধিক স্বামী গ্রহণ করা কোন মুসলমান স্ত্রীর পক্ষে আইনসঙ্গত নয়। যে স্ত্রী লোকের স্বামী জীবিত আছে এবং যে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তালাক সম্পন্ন হয়নি উক্ত স্ত্রীর সাথে অন্য কারো বিয়ে হলে তা অবৈধ হবে।

আবার স্বামীর জীবদ্দশায় কোন স্ত্রী পূণরায় বিবাহ করলে দন্ডবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান মোতাবেক সর্বোচ্চ সাত বৎসর কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং অর্থদন্ডও  দন্ডিত হবেন। তবে স্বামী যদি একাধারে সাত বৎসর পর্যন্ত নিখোজ থাকেন তাহলে স্ত্রী পূণরায় বিয়ে করতে পারবেন। 

আমাদের সমাজে  স্বামীর ক্ষেত্রে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনসিদ্ধ হলেও কোন অবস্থাতেই একজন স্ত্রী তার স্বামী জীবিত থাকালীন সময়ে দ্বিতীয় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না। 

এই জাতীয় বিয়ে হতে যে সন্তানের জন্ম হবে তাহাকে অবৈধ বিবেচনা করা হবে (লিয়াকত আলী বনাম করিম উন নেসা (১৮৯৩) ১৫ এলাহা, ৩৯৬)। এবং এই অবৈধ সন্তানকে স্বীকৃতির মাধ্যমে বৈধ বা বিধিসিদ্ধ করা যায় না।

তবে ইদ্দতের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোন স্ত্রী লোক পূণরায় বিয়ে করলে উক্ত বিয়ে অনিয়মিত বিয়ে বলে গণ্য হবে। এটা অবৈধ নয় এবং উক্ত বিয়ের ফলশ্রুতিতে জন্মপ্রাপ্ত সন্তানাদি বৈধ বা বিধিসিদ্ধ হবে। উল্লেখ্য যে, ঐ সময়কালকে ইদ্দত বলা হয় যে সময়ে তালাক বা মৃত্যুর দরুন কোন মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে, তাকে একাকী বা নিভৃতে বসবাস করতে হবে এবং অপর স্বামী গ্রহণ হতে বিরত থাকবে। ঐ মহিলা তার প্রাক্তন স্বামী কর্তৃক গর্ভবতী হয়েছে কিনা তা নিরুপণ করার উদ্দেশ্যে এবং যাহাতে তার গর্ভস্থ সন্তানের পিতৃত্ব সংক্রান্ত সন্দেহ বা সংশয় এড়ানোর জন্য এই নিবৃত্তি আরোপ করা হয়েছে।

        আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন মন্তব্যের ঘরে
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »