জমি পরিমাপের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি জেনে নিন

পোষ্ট লিখেছেনঃ | প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, মার্চ ২৪, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
আমাদের প্রায়ই জমি মাপ জোখের প্রয়োজন পড়ে। জমি আছে অথচ ঝামেলায় পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাছাড়া জমি ভাগাভাগি হলেও জমি পরিমাপের বিষয়টি চলে আসে। জমি পরিমাপ করা  এমন গুরুত্বপূর্ণ হলেও জমি পরিমাপ করার জন্য সার্ভেয়ার বা আমিন সব সময় পাওয়া যায় না। আবার সার্ভেয়ার বা আমিন পাওয়া গেলেও উক্ত সার্ভেয়ার বা আমিন প্রতিপক্ষের সাথে যোগসাজশে আপনার জমির পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।

এজন্য জমি পরিমাপের নিয়ম কানুন সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রত্যেক জমিদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আজকে আমরা জমি পরিমাপের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানব। এই পোস্টটি পড়ে খুব সহজেই একজন ব্যক্তি তার জমি নিজেই পরিমাপ করতে পারবেন। জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে যে চেইন ব্যবহার করা হয় সেটির নাম হল গান্টার্স চেইন। ইংরেজ বিজ্ঞানী গানটার জরিপ কাজে এই চেইন আবিষ্কার করেন বলে তার নাম অনুসারে এই  চেইনটির নাম গান্টার্স রাখা হয়েছে। এই চেইন সম্পর্কে আমাদের একটু ধারণা রাখা প্রয়োজন। এই চেইনের দৈর্ঘ্য ২২ গজ বা ৬৬ ফুট। এতে মোট ১০০ টি লিংক রয়েছে। প্রতিটি লিংকের দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি।


জমি পরিমাপের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতাংশ ধরে জমির পরিমাপ করা। গান্টার্স চেইনের ১০০০ বর্গলিংক = ১ শতাংশ ধরা হয়। সাধারণত জমি বর্গাকৃতির হয়ে থাকে। এখন আমরা চেইন দিয়ে এক শতক জমি মেপে দেখব। এক্ষেত্রে আগে নিচের ছবিটি দেখুন।
উপরের ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে জমির দুইটি দৈর্ঘ্য আছে এবং দুইটি প্রস্থ আছে। প্রতিটি দৈর্ঘ্যের পরিমাণ ৩১.৬২ লিংক। দৈর্ঘ্য দুইটি যোগ করলে ৬৩.২৪ লিংক হয়। এই ৬৩.২৪ লিংকে ২ দিয়ে ভাগ ককরলে একটি গড় দৈর্ঘ্য পাওয়া যাবে সেটি হলো ৩১.৬২ লিংক। তেমনিভাবে একই পদ্ধতিতে প্রস্থ দুইটি যোগ করলেও ৬৩.৩৪ লিংক হয় এবং গড় প্রস্থ ৩১.৬২ লিংক হয়। এখন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ গুন করলে (৩১.৬২ গুনন ৩১.৬২) = ১০০০ বর্গলিংক হয়। আর আমরা তো জানি যে ১০০০ বর্গলিংক = ১ শতক হয়। যদি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ গুন করে ১০০০ লিংক থেকে বেশি বা কম হয় তাহলে গুন করে প্রাপ্ত লিংককে ১০০০ দিয়ে ভাগ করলেইই মোট শতাংশ বেরিয়ে যাবে।

বর্গফুটের হিসাব দিয়ে পরিমাপ

কিন্তু গানটারস চেইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই চেইন সবার নিকটে পাওয়া যায়না। এজন্য এখন আমরা শুধুমাত্র ফিতা বা টেপ ব্যবহার করে জমির পরিমাপ বের করব। সে ক্ষেত্রে আমাদেরকে বর্গফুটের হিসাবে যেতে হবে। এজন্য যে তথ্য মনে রাখতে হবে সেটি হল- ১ শতাংশ= ৪৩৫.৬ বর্গফুট। এতটুকু মনে রাখলেই চলবে। এখন নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

উপরের ছবির জমিটিতে দেখা যাচ্ছে এক দিকের দৈর্ঘ্যের পরিমাণ ৬০ ফুট এবং অন্যদিকের দৈর্ঘ্যের পরিমান ৫০ ফুট। দুই দৈর্ঘ্যের গড় হলো- (৬০+৫০) ÷ ২= ৫৫ ফুট। অর্থাৎ জমিটির দৈর্ঘ্য পাওয়া গেল ৫৫ ফুট। এখন আমরা প্রস্থ বের করব। চিত্রে দেখা যাচ্ছে এক দিকের প্রস্থ ৩৫ ফুট এবং অন্য দিকের প্রস্থ ৩৫ ফুট। দুই প্রস্থের গড় বের করলে হবে- (৩৫+৩৫) ÷ ২ = ৩৫ ফুট। এবার আমরা দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ গুন করে বর্গফুট বের করবো। দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট গুনন প্রস্থ ৩৫ ফুট = ১৯২৫ বর্গফুট। এখন আমাদের কাজ হলো শতাংশ বের করা। আমাদের মনে আছে যে ৪৩৫.৬ বর্গফুটে ১ শতাংশ। তাহলে ১৯২৫ বর্গফুট ÷৪৩৫.৬ বর্গফুট = ৪.৪১ শতাংশ জমি।

একই সুত্র ধরে গজ এবং হাত পদ্ধতিতেও জমির পরিমাপ বের করা যায়। এক্ষেত্রে শুধু মনে রাখতে হবে যে- ১ শতাংশ = ১৯৩.৬০ বর্গহাত বা ৪৮.৪০ বর্গগজ। এটা মনে রেখে উপরের সুত্র ধরে পরিমাপ করলেই জমির পরিমাণ জানা যাবে। তবে কেউ যদি কাঠার হিসেব বের করতে চাই সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে-
১ কাঠা = ১.৬৫ শতক বা ৭২০ বর্গফুট ।
আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন। এই সুত্র দিয়ে অধিকাংশ জমির পরিমাপ করা সম্ভব । তবে বেশি আঁকাবাঁকা জমির পরিমাপ করতে হলে আরেকটু বেশি জেনে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে, এখানে জমির যে হিসেব দেখানো হয়েছে তা ৩৩ শতকে ১ বিঘা ধরে করা হয়েছে।

আপনি কি আমাদের ব্লগে লিখতে আগ্রহী? তাহলে এখানে নিবন্ধন করুন।
আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে।
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »