পুলিশের নিকট আসামীর দোষ স্বীকারোক্তির সাক্ষ্যগত মূল্য

| প্রকাশিত হয়েছেঃ রবিবার, মার্চ ১৮, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ


স্বীকারোক্তি বলতে বোঝায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ এর বিধান মোতাবেক প্রদত্ত আসামির স্বীকারোক্তি। অনেক সময়ই পুলিশ যখন কোন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন তখন পুলিশি নির্যাতনের কারণে বা নির্যাতনের ভয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার দোষ স্বীকার করেন। এরূপ স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য আইনের আলোকে আদালতে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তা দেখা প্রয়োজন। সাধারনত আসামির বিরুদ্ধেই আসামির স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালিন সময়ে আসামীর দোষ স্বীকারোক্তির কতটা মূল্য রয়েছে সেই সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে যে- কোন মামলার আসামী যদি পুলিশ অফিসারের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে থাকে সেই স্বীকারোক্তি আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না অর্থাৎ ঐ স্বীকারোক্তিকে সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে ব্যবহার করা যাবে না।


কারণ এটা স্পষ্ট যে,  কোনো আসামি যখন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি প্রদান করে তখন ধরে নেয়া হয় যে ওই আসামি পুলিশি নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বা পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। কিন্তু স্বীকারোক্তি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক। স্বীকারোক্তিতে কোন জোর জবর্দস্তি চলবে না, কোন ভয় থাকবে না, কোন প্রকার প্ররোচনা থাকবে না বা লোভ-লালসা থাকবে না। সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি করলেও তা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে উপরোক্ত দুটি ধারার কিছু ব্যতিক্রম ২৭ ধারায় লক্ষ্য করা যায়। আমাদের সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে তার কোন স্বীকারোক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার চোরাই মাল বা কোন তথ্য উদঘাটিত হয় তাহলে উদঘাটিত বিষয়ের সাথে আসামির বক্তব্যের যে অংশটুকুর মিল রয়েছে সে অংশটুকু আদালতে প্রমাণ করা যাবে অর্থাৎ প্রমাণ সাপেক্ষে আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে বলে যে সে কিছু চোরাই মাল বা আলামত করিমের কাছে বিক্রি করেছে বা রেখেছে। আসামিকে নিয়ে নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে করিম থেকে উক্ত মালামাল বা আলামত উদ্ধার এর সাথে সম্পৃক্ত আসামির স্বীকারোক্তি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া পুলিশ হেফাজতে আসামি কর্তৃক প্রদত্ত অন্য কোন স্বীকারোক্তি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।
আপনি কি আমাদের ব্লগে লিখতে আগ্রহী? তাহলে এখানে নিবন্ধন করুন।
আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »