আবার কি মোরা মানুষ হইতে পারিবো?

| প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, মার্চ ০৯, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
পৃথিবীতে আঠারো হাজার মাখলুকাত রহিয়াছে। এই আঠার হাজার মাখলুকাতের মধ্যে রহিয়াছে মানুষ, পশু, পক্ষি, জীব, জন্তু, জানোয়ার ইত্যাদি। পশু পক্ষির মধ্যে কোনটি হিংস্র, কোনটি নিরীহ, কোনটি মাংসাশী আবার কোনটি তৃণভোজী। সৃষ্টকুলের মধ্যে জীব, জন্তু, পশু, পক্ষী সকলেই তাহাদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য বা স্বকীয়তা ধারণ করিয়া আছে। মনুষ্য সমাজের নিয়ন্ত্রণের  জন্য যেমন আইন আছে, মনুষ্য সমাজ যেমন আইনের অধীন, তেমনিভাবে অন্যান্য প্রাণীকুলও একটি নির্দিষ্ট আইনের অধীন। অন্যান্য প্রাণীকুল তাহাদের জন্য নির্দিষ্ট আইন যথাযথভাবে মান্য করিয়া চলে। এজন্যই বোধহয় আমরা কেহই শুনি নাই যে কেহ বাঘ কে বলিতেছে 'বাঘ আবার তোরা বাঘ হ, সিংহ আবার তোরা সিংহ হ বা গাধা আবার তোরা গাধা হ'। এই আঠারো হাজার মাখুলুকাতের মধ্যে মানুষ হইল সর্বশ্রেষ্ঠ জীব।
পবিত্র কোরআনে বলা হইয়াছে মানুষ হইলো সৃষ্টির সেরা জীব আবার এই মানুষই হইলো সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। মানুষ তাহার কর্মের মধ্য দিয়া সৃষ্টি জগতের মধ্যে সেরা হইতে পারে আবার কর্মের মধ্য দিয়াই সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে চাইতে নিকৃষ্ট হইতে পারে। সৃষ্টিকর্তা মনুষ্য জাতী সৃজন করিয়া তাহাদেরকে দুইটি পথ দেখাইয়া দিয়াছেন। একটি সত্য ও ন্যায়ের পথ, অপরটি হইল মিথ্যা ও অন্যায়ের পথ। সৃষকর্তা মানুষকে ইচ্ছাশক্তি দান করিয়াছেন। ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করিয়া একজন ন্যায়ের পথে চলিতে পারে আবার অন্যায়ের পথেও চলিতে পারে। মনুষ্য বৈশিষ্ট্যের উথান-পতন আছে। মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হইল যে মানুষের মধ্যে দয়া, মায়া, মানবতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, সততাসহ যাবতীয় ইতিবাচক গুণাবলীর সমাহার ঘটিবে। এই গুলির সমাহারই হইল মনুষত্যবোধ। আর এজন্যই মানুষের মনুষত্যের পতন ঘটিলেই আমরা বলিতে থাকি মানুষ হও। ইহার মানে হইল তোমার মধ্যে দয়া, মায়া, মানবতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, সততা ইত্যাদি গুণাবলীর অনুপস্থিতির কারণে তুমি এখন মনুষ্য সজ্ঞার বাইরে অবস্থান করিতেছ। তোমার মধ্যে দয়া, মায়া, মানবতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, সততার গুণাবলী জাগাইয়া তোল। তুমি মানুষ হও।

যদিও আমরা কাগজে কলমে এখন দাবী করিয়া থাকি যে আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করিতেছি। কিন্তু আসলেই কি তাই? আমরা কি আসলেই সভ্য সমাজে বসবাস করিতেছি? যদি আমাদের বর্তমান সমাজকে সভ্য সমাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তাহা হইলে বোধহয় সভ্যতার সংগাটি আবার নতুন করিয়া আমাদের লিখিতে হইবে। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করিতে পারিবেন যে আমরা যে সমাজে বসবাস করিতেছি তাহা মোটেও সভ্য সমাজ নহে। অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, নোংরামির এই সমাজ কে আমরা কোন মুখে সভ্য সমাজ হিসেবে আখ্যায়িত করিব? সভ্য সমাজ হইতে হইলে আগে মানুষকে মানুষ হইয়া উঠিতে হয়। প্রশ্ন জাগে আমরা কি মানুষ হইয়া উঠিতে পারিয়াছি? আমরা আজও মানুষ হইয়া উঠিতে পারি নাই। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই কেহ দামী খাবার অপচয় করিয়া ডাস্টবিনে ফেলিয়া দেয় আর কেহ সেই খাবার ক্ষুধার তাড়নায় আজও ডাস্টবিন হইতে কুড়াইয়া খায়। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই গর্ভবতী পাগলী মা প্রসব বেদনায় ডাস্টবিনে পড়ে ছটফট করিতে থাকে আর আমরা তাহাকে সাহায্য করিবার বদলে আমাদের মনুষত্যবোধ কে কবর দিয়া তাহা নির্বিকার চাহিয়া চাহিয়া দেখিতেও লজ্জাবোধ করিনা। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই ঘুষের টাকা না দিতে পারায় গর্ভবতী মাকে আজও হাসপাতালের বাইরের রাস্তায় জনসম্মুখে বাচ্চা প্রসব করিতে হয়। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই আজও আমাদের ছোট্ট দুধের শিশুটি, আমাদের নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা দাদী নানী, আমাদের মা বোন স্ত্রী কোন পুরুষ নামক জানোয়ারদের লালসার শিকার হয়। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই আজও কোর্ট কাচারির দ্বারে দ্বারে বিচারের বানী কান্দে। মানুষ হইতে পারি নাই বলিয়াই কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর রাগে দুঃখে ক্ষোভে লিখিয়া গিয়াছেন 'সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।'
দেশ স্বাধীন হইয়াছে, বাঙ্গালী থেকে আমরা বাংলাদেশি হইয়াছি, সাত কোটি জনগণ আজ ষোল কোটিতে রুপান্তরিত হইয়াছি, তথ্য প্রযুক্তিতে দেশ অনেক খানি আগাইয়া গিয়াছে কিন্তু আজও আমরা মানুষ হইতে পারিনি। মনুষ্য সমাজ হইতে মনুষ্যত্ববোধ যেন চির বিদায় নিয়াছে। মানুষের প্রতি মানুষের মায়া,মমতা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, দায় দায়িত্ববোধ এখন আর দেখা যায় না।  এজন্যই বোধহয় ভূপেন হাজারিকা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখেছিলেন- 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না…ও বন্ধু। মানুষ মানুষকে পণ্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে, পুরোনো ইতিহাস ফিরে এলে, লজ্জা কি তুমি পাবে না…ও বন্ধু।'

এই কথাখানি সত্য যে সমাজব্যবস্থা  যদি বস্তুবাদী, ভোগবাদী হয়, তাহা হইলে মানুষও ধীরে ধীরে বস্তুবাদী ও ভোগবাদী হইয়া উঠে। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয় তাহা হইলে ঐ সমাজের মানুষও ধীরে ধীরে দুর্নীতিগ্রস্থ হইয়া পড়ে। কিন্তু ইহা ভুলিলে চলিবে না যে মানুষ লইয়াই সমাজ গঠিত হয়, মানুষ দ্বারাই রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সেই মানুষ মানুষ না হইয়া উঠিলে সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ভাল হইবে কিরূপে? আমাদের বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আশংকা জনক ভাবে স্বৈরাচারী হইয়া পড়িয়াছে। এখন কেউ কারো কথা মানিতে চাহে না। কেউ কাউকে সম্মান, মর্যাদা দিতে চাহে না। মানুষ এখন খুব বেশি পরিমানে স্বার্থবাদী ও স্বৈরাচারী হইয়া পড়িয়াছে। মানুষের মধ্য থেকে পাপবোধ, মানবতাবোধ আজ বিলুপ্তির পথে। দেশ চলিতেছে খামখেয়ালিভাবে। সমাজের প্রত্যেক স্তরে দুর্নীতির পোকা ঢুকিয়া সাধারণ জনগণকে কুরিয়া কুরিয়া খাইতেছে। এমন কোন সরকারী দফতর নাই যেখানে বিনে ঘুষে সেবা পাওয়া যায়। এমন কোন সরকারী দফতর নাই যেখানে সাধারণ মানুষ হেনস্তার শিকার হয় না।

বেকার সমস্যা, ব্যাংক লুট, নানামুখী দুর্নীতি, শিক্ষাখাতে ধস, স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতি, রাস্তাঘাট, কলকারখানার বেহাল দশা, আইনশৃঙ্খলার করুন অবস্থাসহ নানামুখী সমস্যায় যখন দেশ জর্জরিত তখন রাজনীতিবিদরা সভা-সমাবেশ, টিভির টকশোতে একে অন্যের দিকে কাদা মাটি ছুড়িয়া নিজেদের দোষ ঢাকিবার বৃথা চেষ্টা করিতেছেন। একটা কথা আমি কিছুতেই বুঝিনা যে কোন দল ক্ষমতায় আসার পূর্বে কত রকম প্রতিশ্রুতি দিয়া থাকে। অথচ ক্ষমতায় আসিলেই তাহারা ঘোল পাল্টাইয়া ফেলেন কেন? ক্ষমতায় আসার পর অতীত ভুলের সংশোধন করিয়া জনবান্ধব সরকার গঠন করিলেই তো জনগণ খুশি হইয়া বারবার তাহাদেরকে ক্ষমতার মসনদে বসাইবে। জনবান্ধব সরকার হয়না বলিয়াই তো জনগণ এক সরকারকে ছুড়িয়া ফেলে ক্ষমতার মসনদে অন্য দলকে বসাইতে চায়। বিরোধী দল সরকারি দলের সমালোচনা করিলেই সরকারী দল ঝাপাইয়া পড়েন বিরোধী দলের অতীত কৃর্তি নিয়া। কিন্তু ইহা কেন তাহারা ভুলিয়া যান যে তুমি অধম হইয়াছো বলিয়া কি আমি উত্তম হইবো না? বিরোধী দল খারাপ থাকে বলিয়াই তো জনগণ নতুন দলকে ক্ষমতায় আনে। ইহা কেন তাহারা ভুলিয়া যান তাহা আমি কিছুতেই বুঝিতে পারি না।

সমাজব্যবস্থার শিরায় উপশিরায় যে আজ দুর্নীতির বীজ বপিত হইয়াছে তাহা সুস্থ মস্তিষ্ক সমপন্ন ব্যক্তি মাত্রই অনুধাবন করিতে পারেন। দেশের উন্নয়ন, সমাজের উন্নয়ন করিতে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তার সত্তর ভাগ টাকা দুর্নীতিবাজদের পকেটে চলিয়া যায়। উন্নয়ের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করাতেই অর্ধেকের বেশি টাকা গায়েব হইয়া যায়। উদাহরণ স্বরুপ বলা যাইতে পারে যে, একটা রাস্তার উন্নয়ন বা সংস্কারের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হইলে তা ছাড় করিয়া আনিতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন টেবিলে বিশ শতাংশেত মত টাকা খরচ হইয়া যায়। বাকি আশি শতাংশের মধ্যে প্রজেক্ট পরিচালক / ইঞ্জিনিয়ার, সাইট ইঞ্জিনিয়ার, সুপারভাইজারের পকেটে ত্রিশ শতাংশ চলিয়া যায়। পাচ শতাংশ টাকা বিভিন্ন কর্মচারীর বেতন, বিল ইত্যাদির জন্য খরচ হইয়া যায়। বাকি পঁয়তাল্লিশ শতাংশের মধ্যে পনেরো থেকে বিশ শতাংশ টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পকেটে যায়। এবার ভাবিয়া দেখুন উন্নয়ন কাজের জন্য কতটুকু টাকা থাকে।

সমাজের মহৎ পেশা গুলির মধ্যে ডাক্তার, শিক্ষক, আইনপেশা গুলিকেই সর্বাগ্রে দেখা হয়। কিন্তু ডাক্তারের নিকট সাধারণ জনগণ কিরুপে ডাকাতির শিকার হইতেছে তাহা ভাল ভাবেই টের পাওয়া যাইতেছে। ডাক্তারের নিকট গেলে যদি তেমন কিছু নাও হয় তবু ডাক্তার চার পাচটি টেস্ট হাতে ধরাইয়া দিবেনই। পরে ঐ টেস্ট থেকে তিনি কমিশন খাইবেন। কমিশন খাইয়া ডাক্তার আজেবাজে কোম্পানির ঔষধ সাজেস্ট করিয়া থাকেন। আবার ডাক্তারের সাজেশন মত ঔষধ কিনিতে গেলে ভেজাল ঔষধ পাওয়া টা আজকাল নিত্যদিনের ব্যাপার। মৃত ব্যক্তি কে জীবিত দেখাইয়া হাসপাতালের বিল বাড়াইয়া রোগীর স্বজনদের পকেট ডাকাতি করা, গর্ভবতী মাকে ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে লইয়া গেলে সিজার করিবার প্রয়োজন না হইলেও টাকার লোভে সিজার করিতে বাধ্য করানো, সরকারি হাসপাতালে টাকা দিলে সীট পাওয়া না দিলে ফ্লোরেও যায়গা না হওয়া, বেওয়ারিশ লাশের সন্ধানে হাসপাতালে গেলে লাশ না দিয়া ভুল বুঝাইয়া ঐ লাশের কংকাল বিক্রির ব্যবসা করা, সরকারি হাসপাতালে রোগীর আত্বীয় স্বজনদের মারধর করা এখন সাধারণ ব্যাপার হইয়া দাড়াইয়াছে। প্রতিবাদ করিতে গেলেই কর্মবিরতি দিয়া ডাক্তার সমাজ আন্দোলন করিয়া জনগণকে হয়রাণীর সাগরে ডুবাইতে থাকেন।

ভুক্তভোগী জনগণ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য উকিলের কাছে যান। কিন্তু অনেক উকিল তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করিয়া মোয়াক্কেলের পকেট থেকে টাকা খসাইয়া তাহাদেরকে আরো বেশি সমস্যার ভিতরে ফেলিতে কার্পণ্য করেন না। যাহাদের কে সামাজিক ডাক্তার বলা হয়, যাহাদের হাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই আইনজীবীরাই নিজ নিজ মোয়াক্কেলের সহিত অবিচার করিতে দ্বিধাবোধ করেন না।  যে শিক্ষকদের কে আমরা জাতী গড়িবার কারিগর বলিয়া থাকি তাহাদের হাতেই যখন আমাদের সন্তানেরা ধর্ষিত হয়, তাহারা যখন শিক্ষাকে ব্যবসা বানিয়ে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করিয়া রমরমা কোচিং ব্যবসা করিতে থাকেন, তাহারা যখন প্রশ্নফাসের সহিত জড়িত থাকিয়ে জাতীকে মেধাশুন্য করিবার চক্রান্ত করিয়া থাকেন তখন লজ্জায় আমাদের মাথা নিচু না হইয়া পারেনা।

যে ছাত্ররা শিক্ষগুরুর পায়ে হাত দিয়া আশীর্বাদ নিত, সম্মান করিত, শ্রদ্ধা জানাইত, শিক্ষককে দেবতুল্য জ্ঞান করিত, সেই ছাত্ররাই আজ শিক্ষককে জিম্মি করিয়া মারধর করে। অপমান করে। যেই ছাত্রদের শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করিয়া মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করিবার কথা তাহারা আজ টেন্ডারবাজি করে, চাঁদাবাজি করে, যৌন হয়রানী করে, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করে। আজকালকার বাচ্চারা সারাদিন বসিয়া থাকিতেছে হাতে ট্যাব,স্মার্ট ফোনসহ আধুনিক সব জিনিস লইয়া । সারাদিন ডুবিয়া থাকিতেছে গেইম খেলা লইয়া। আর পড়ার নামে কিছু হযবরল বিষয় মুখস্হ করিয়া খাতায় লিখিয়া দিয়া আসিতেছে। কি পড়িতেছে, খাতায় কি লিখিতেছে তাহা তারা নিজেরাই জানেনা। পরবর্তীতে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করিয়া স্মার্টফোনে ছবি তুলিয়া কিংবা গুগলে সার্চ করিয়া সব লিখিয়া দিয়া  আসিতেছে। অতপর তৈরি হইতেছে মেধাশূণ্য একটা জাতি! কখনো ভাবা যায় কি ঘটিতে চলিতেছে ভবিষ্যতে? কোথায় গিয়া দাঁড়াইবে আমাদের যুবসমাজ?

টিভি খুলিলেই নোংরামি ভরা সিনেমা, নাটক, গান, বিজ্ঞাপন দেখিতে পাওয়া যায়। নারীদেরকে  স্বাধীনতা দেওয়ার নামে পণ্য বানিয়ে উপস্থাপন করা হইতেছে। আমাদের সমাজ থেকে লজ্জা শরম যেন দিন দিন উঠিয়া যাইতেছে। পারিবারিক ভাঙ্গন এখন যেন ফ্যাশনে পরিণত হইয়াছে। কিন্তু এই কিছুদিন আগেও কত ছন্দময় ছিল জীবনটা। পরিবারের একের সাথে অন্য সদস্যদের কত ভাল সম্পর্ক ছিল। কখনোবা সবাই মিলে বসিত অাড্ডা। কত গঠনমূলক সমালোচনা হইত। বাচ্চারা মা, বাবা, ফুপু,চাচা, দাদা বা অন্যকোন আপনজনের নিকট নিত হাতে খড়ি এবং নৈতিক শিক্ষা। সদস্যদের মাঝে পারিবারিক বন্ধন আরো দৃঢ় হইত। সবাই বসে বৃষ্টির দিনে একত্রে মুড়ি মাখা খাইত, লুডু খেলিত, হৈ চৈ করিত। পরপুরুষ দেখিলেই মা বোনরা ঘোমটা ঢেকে মুখ লুকাইত। মানুষের মাঝে মায়া মমতা, একে অপরের প্রতি সহমর্মিতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহজ সরলতাপূর্ণ জীবন যাপন কত কিছুই না ছিল। কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের সেই দিনগুলো? আগে এক বাড়িতে মানুষ মরিলে দশ গ্রামে শোকের মাতম বইয়া যাইত। এখন কোন বাড়িতে মানুষ মরিলে পাশের বাড়িতে গান বাজনা চলিতে থাকে। কোন বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলে লোক হয় না কিন্তু পাশেই চায়ের দোকানে লোকে লোকারণ্য। আড্ডা দেওয়ায়, টিভি দেখায় তাহারা মত্ত থাকে। দিন দিন যত যাইতেছে ততই আমরা যান্ত্রিক হইয়া যাইতেছি। আমাদের মনুষ্যত্ববোধ বিসর্জন দিয়া আমরা আজ অমানুষে পরিণত হইয়াছি। তাইতো প্রশ্ন জাগে মনে আবার কি মোরা মানুষ হইতে পারিবো? অপরাধ প্রবণ এই সমাজ ব্যবস্থা কে নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য শক্ত শক্ত অনেক আইন রহিয়াছে। কিন্তু এই সব আইনকে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা হইতেছে না বলিয়াই আমাদের সমাজ ব্যবস্থার আজ বেহাল দশা। তাছাড়া আছে ধর্মীয় আইন। ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের ভিতরে জাগ্রত না হইলে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকিলে প্রকৃত মানুষ হইয়া উঠা আমাদের জন্য সম্ভব হইবে বলিয়া আমার বিশ্বাস হইনা। তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইন সচেতন সমাজ তৈরি এখন সময়ের দাবি।
আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে।


পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »

1 টি মন্ত্যব্য:

মন্তব্য করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
২০ মার্চ, ২০১৮ ৮:৪০ PM × এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
avatar