আদালত হতে সাকসেশন সার্টিফিকেট যেভাবে পাবেন

| প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, এপ্রিল ০৯, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
মোঃ সেলিম (কল্পিত নাম) নামের এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাকালীন হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অল্প অল্প করে ব্যাংকে কিছু অর্থ জমিয়েছিলেন। তার হঠাৎ মৃত্যুর পর সেলিমের পরিবার দুঃখের সাগরে পড়ে গেলেন। সেলিমের স্ত্রী সেলিম যে ব্যাংকে টাকা জমা করেছিলেন সেই ব্যাংকে গেলেন সেলিমের জমানো টাকা উঠানোর জন্য। কিন্তু ব্যাংক থেকে সেলিমের স্ত্রীকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হলো যে, আদালত হতে সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সনদ ছাড়া তিনি সেলিমের জমানো টাকা উঠাতে পারবেন না। কোলের শিশু সন্তান সহ অন্যান্য  সন্তানকে নিয়ে সেলিমের স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়লেন। সাধারণত কোনো ব্যাংক হিসাব করার সময় গ্রাহক যদি কোনো নমিনি করে না যান, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে হয় উত্তরাধিকারীদের। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আদালত হতে সাকশেসন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সনদ পেলে খুব সহজেই ব্যাংক হতে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা টাকা উঠাতে পারবেন।তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ এর ধারা ৩৭০-৩৮৯ এ সাকসেশন সার্টিফিকেট এর ব্যপারে বলা আছে। আইনে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহনের জন্য আবেদনের কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করা নেই। উল্লেখ্য যে, উত্তরাধিকারী সনদ শুধুমাত্র বাংলাদেশে ব্যবহারের উপযোগী।সাকসেশন সার্টিফিকেট মূলতঃ মৃত ব্যাক্তির ব্যাংকে জমানো টাকা উত্তোলন, প্রতিজ্ঞাপত্র, ষ্টক, সরকারের অন্য কোন জামানত, কোম্পানীর শেয়ার, ডিবেঞ্চার, রয়্যালটির সর্বোপরি মৃত ব্যাক্তির অর্থ সংক্রান্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। তবে, ব্যবস্থাপনাপত্র বা প্রবেট দ্বারা উদ্ভুত কোন দেনা বা জামানতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আইনজীবীকে যে সকল কাগজপত্র সরবরাহ করতে হবে

আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে আইনজীবীকে চেয়ারম্যান বা কমিশনার কর্তৃক ওয়ারিশিয়ান সার্টিফিকেট সরবরাহ করতে হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা চেয়ারম্যান অফিস বা কমিশনারের কাছ থেকে প্রয়াত ব্যক্তির মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করতে হবে।মৃত ব্যক্তিকে যে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে, সে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র। মৃত ব্যক্তি যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সেখান থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে আইনজীবীকে দিতে হবে। প্রয়াত ব্যক্তি কোন ব্যাংকে কত টাকা রেখে গেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে একটি সনদ (ব্যালান্স কনফারমেশন লেটার) ওঠাতে হবে এবং আইনজীবীর কাছে সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া আবেদনকারী, মৃত ব্যক্তিসহ সকল ওয়ারিশদের ভোটার আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি সরবরাহ করা ভাল। এই সকল কাগজপত্রাদি আইনজীবী আবেদনের সাথে আদালতে দাখিল করবেন।

যিনি আবেদন করতে পারবেন

মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রত্যেকে কিংবা তাদের পক্ষে যিনি টাকা তুলবেন, তিনি আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সাকসেশন মামলা জেলা জজ আদালত বা জেলা জজের মনোনীত অন্য কোনো আদালত নিষ্পত্তি করেন। ঢাকায় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে এ সনদ-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কাজেই ঢাকার ক্ষেত্রে তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা দায়ের করতে হয়। 

আবেদনের সঙ্গে একটি হলফনামা দিতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—

১। তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে কী হন;
২। মৃত ব্যক্তির এ টাকা কাউকে দান বা উইল করে যাননি;
৩। উইলের জন্য কোনো প্রবেট বা লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দরখাস্ত দাখিল করে যাননি;
৪। তাঁকে অন্য উত্তরাধিকারীরা টাকা তোলার ক্ষমতা দান করেছেন। আরজিতে মৃত ব্যক্তির টাকার হিসাবের বিবরণ তফসিল আকারে দিতে হবে।

আদালতে আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ে আদালত আবেদনকারীর জবানবন্দি নেবেন এবং সততা যাচাই করবেন। পরবর্তী সময়ে আদালতে নির্দিষ্ট কোর্ট ফি জমা দেওয়ার জন্য আদেশ দেবেন। কোর্ট ফি জমা দেওয়া হলে পরে সনদ ইস্যু করবেন।

কত টাকা খরচ হতে পারে

আদালতে সাকসেশন মামলা দায়ের করার পর আদালত উত্তারাধিকার সনদের আবেদন মঞ্জুর করলে কোর্ট ফি দাখিল করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যাংক থেকে কত টাকা ওঠানোর জন্য আবেদন করছেন, তার ভিত্তিতে কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়। দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না। কিন্তু ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত এক শতাংশ কোর্ট ফি দিতে হয়। আবার এক লাখ এক টাকা থেকে যে কোনো পরিমাণ অর্থের ওপর দুই শতাংশ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। এছাড়া আইনজীবীর সাথে আলাপকরে আইনজীবীর ফি কত তা নির্ধারণ করে নিতে হবে।
আপনি কি আমাদের ব্লগে লিখতে আগ্রহী? তাহলে এখানে নিবন্ধন করুন।
আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »