বাল্য বিবাহের শাস্তি সম্পর্কে জেনে নিন

| প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
একজন শিক্ষিত মা হলে একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করা সম্ভব- বলেছিলেন প্রখ্যাত মনিষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। অথচ আজ এই একুশ শতকে এসেও বাংলাদেশের ৬৬% মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ । আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে উঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্য বিবাহ একটি বড় বাধা। সমাজে বাল্য বিবাহের হার অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায়  Child Marriage Restraint Act, 1929 (Act No. XIX of 1929) রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করে নূতনভাবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ পাশ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী “অপ্রাপ্ত বয়স্ক” অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী কে বোঝানো হয়েছে এবং “বাল্যবিবাহ” বলতে বোঝানো হয়েছে এইরূপ বিবাহ যাহার কোন এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কোন বিবাহের উভয় পক্ষ বা কোন একটি পক্ষ যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয় তাহলে সেই বিবাহ বাল্য বিবাহ হিসাবে গণ্য হবে। বাল্য বিবাহের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ পাশ করা হয়েছে। বাল্য বিবাহের সাথে জড়িত প্রত্যেকেই এই শাস্তির আওতায় আসবেন।

বাল্য বিবাহ করার শাস্তি  
এই আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে যে,প্রাপ্ত বয়স্ক কোন নারী বা পুরুষ বাল্য বিবাহ করলে তা একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।এছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোন নারী বা পুরুষ বাল্য বিবাহ করলে তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হবেন।তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৮ এর অধীন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা দণ্ড প্রদান করা হলে উক্তরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষকে শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

বাল্য বিবাহ সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির শাস্তি
৮ ধারায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা, অভিভাবক অথবা অন্য কোন ব্যক্তি, আইনগতভাবে বা আইনবহির্ভূতভাবে কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির উপর কর্তৃত্ব সম্পন্ন হয়ে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করবার ক্ষেত্রে কোন কাজ করলে অথবা করার অনুমতি বা নির্দেশ প্রদান করলে অথবা স্বীয় অবহেলার কারণে বিবাহটি বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে উতা একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর ও অন্যূন ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
       
বাল্য বিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনা করার শাস্তি
এই আইনের ৯ ধারা মতে কোন ব্যক্তি বাল্য বিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনা করলে তা একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর ও অন্যূন ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
    
বাল্য বিবাহ নিবন্ধনের জন্য বিবাহ নিবন্ধকের শাস্তি
এই আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন বিবাহ নিবন্ধক বাল্য বিবাহ নিবন্ধন করলে তা একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার জন্য  তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর ও অন্যূন ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং তার লাইসেন্স বা নিয়োগ বাতিল হবে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “বিবাহ নিবন্ধক” অর্থ Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ্‌ রেজিষ্ট্রার এবং Christian Marriage Act, 1872 (Act No. XV of 1872), Special Marriage Act, 1872 (Act No. III of 1872) ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত বিবাহ নিবন্ধক।

বাল্য বিবাহ যেহেতু একটি সামাজিক ব্যধি। তাই এই ব্যধি নির্মূলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাল্য বিবাহ একদিকে আইন এবং সংবিধানের লংঘন, অন্যদিকে বাল্য বিবাহের বর ও কনেকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে যদি বাল্য বিবাহ  অনুষ্ঠিত বা সম্পাদিত হয়ে যায় তাহলে উক্ত বিবাহ আইন সিদ্ধ হবে। অবৈধ হবে না। কিন্তু উক্ত বাল্য বিবাহের সাথে জড়িত প্রত্যেকেই শাস্তির আওতায় আসবেন।
আপনি কি আমাদের ব্লগে লিখতে আগ্রহী? তাহলে এখানে নিবন্ধন করুন।

আপনার কি কিছু বলার ছিল? তাহলে লিখুন নিচে মন্তব্যের ঘরে।
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »