কারাগারে বন্দীর শ্রেণী ও ডিভিশন ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন

| প্রকাশিত হয়েছেঃ রবিবার, মে ০৬, ২০১৮ | ভয়েস বিভাগঃ
আসামী গ্রেফতার করার পর তার জামিন না হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এসব আসামীদেরকে হাজতি বা বিচারাধীন বন্দী বলা হয়ে থাকে। জামিন না পাওয়া পর্যন্ত বা বিচার সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এই সব আসামীদেরকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়। অন্যদিকে বিচার সমাপ্ত হওয়ার পরে দণ্ডিত অপরাধীকেও কারাগারে প্রেরণ করা হয় শাস্তি ভোগ করার জন্য। এই সব অপরাধীকে কয়েদি বলা হয়ে থাকে। এই সব বন্দীদেরকে জেল কোড অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের বন্দীদেরকে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে বিভক্ত করা হয়। জেল কোডের ৬১৬ নম্বর বিধিতে কারাগারের বন্দীদের শ্রেণীবিভাগ এবং ডিভিশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



৬১৬ নম্বর বিধি মোতাবেক প্রত্যেক কারাগারে ছয় প্রকারের বন্দী থাকবে এবং প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার বন্দী হতে আলাদাভাবে রাখতে হবে। কারাগারে যে ছয় প্রকারের বন্দী থাকে তারা হলো-

১। সিভিল বন্দী;
২। বিচারাধীন বন্দী;
৩। মহিলা বন্দি;
৪। ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী;
৫। পুরুষ বন্দী যারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়নি; এবং
৬। অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।

জেল কোডের ৬১৭ নং বিধিতে বলা হয়েছে যে, সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন ১, ২ ও ৩ এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবে (১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ  ডিভিশন ১ প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-
(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনাভ্যাসগত অপরাধী।
(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবনযাপনের ধরন উচ্চমানের।
(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত নয়-
(এ) নৃশংসতা, নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ।
(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা ।
(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ।
(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিস্ফোরক আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা।
(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংগঠনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।

নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবনযাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন ২ প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হয় না। সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণীবিভাজন কারি কর্তৃপক্ষকে বন্দির চরিত্র এবং প্রাক পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হয়। যেসকল বন্দী ডিভিশন ১ এবং ডিভিশন ২ এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন ৩ এর অন্তর্ভুক্ত হন।


হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন ১ বা ২ প্রদানের জন্য প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্য ( সহকারী জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট জেলা মাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে)  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে পারেন এবং এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবেন বা পুনর্বিবেচনা করবেন। সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় সুপারিশকৃত যেসব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবন সাধারণের চেয়ে উন্নততর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন ১ বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনাভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয়, তাহলে তারা ডিভিশন ১ সাজা প্রাপ্ত বন্দী হিসেবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন ২ সাজা প্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হয়। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নততর  বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন ২ বিচারাধীন  হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন ৩ সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হন।

কারাগারে বন্দীদের ডিভিশন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিভিশন ১ প্রাপ্ত বন্দীরা সাধারণ বন্দীদের তুলনায় অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাদেরকে উন্নতমানের খাবার, আবাসস্থল, বিনোদন, আচরণ ইত্যাদিসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে।বিধি অনুসারে প্রথম শ্রেণীর ডিভিশন-প্রাপ্তদের প্রত্যেক বন্দীর জন্য আলাদা রুম থাকে। খাট, টেবিল,চেয়ার,তোষক,বালিশ, তেল, চিরুনী, আয়না সবকিছুই থাকে। আর তার কাজকর্ম করে দেয়ার জন্য আরেকজন বন্দীও দেয়া হয়। ছেলে বন্দীর ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হিসেবে ছেলে আর মেয়ে বন্দীর জন্য একজন মেয়ে থাকবেন।তাছাড়া তিনি বইপত্র পাবেন এবং তিনটি দৈনিক পত্রিকা পাবেন। সাধারণ বন্দীদের চেয়ে ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দীর খাওয়ার মানও ভাল থাকে।
পোস্টটি শেয়ার করুন

Previous
Next Post »